জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার সহজ উপায়

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন নাগরিক তার ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে পারে। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার দরকার কখন পরে জানেন কি? আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে ভোটার হালনাগাত করার সময় যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে অথবা আপনি যদি কোনো তথ্য যোগ করতে চান বা কোন তথ্য আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রে যুক্ত করতে চান। তাহলেই কেবল আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আবেদন করতে পারবেন। সেই ভুল সংশোধন দুইভাবে করতে পারবেন। আজকের এই অনুচ্ছেদে আমরা জানবো কিভাবে আপনারা জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করতে পারবেন।

কিছুদিন আগের কথা, যখন বাংলাদেশে বাড়ি বাড়ি ভোটার হালনাগাত করা হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বাড়ি বাড়ি ভোটার তথ্য হালনাগাত করছেনা। কেননা, বাংলাদেশ সরকারের সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজ হয়ে যাচ্ছে। যেমনঃ অনলাইনভিত্তক পাসপোর্ট, অনলাইনভিত্তিক জমি সেবা, জন্মনিবন্ধন, অনলাইনভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশান পূরণ ইত্যাদি। বর্তমানে আপনারা অনলাইনে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) এর পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় পত্র রেজিষ্ট্রেশন, ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড, এবং জাতীয় পরিচয় পত্র রিইস্যু ইত্যাদি খুব সহজেই করতে পারবেন।

শিরোনামঃ

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার সহজ উপায়

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করার মোট দুটি পদ্ধতি আছে। যার মধ্যে যেকোন একটি প্রয়োগ করে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করতে পারবেন। আপনি অনলাইন এবং অফলাইন এই দুটি প্রক্রিয়ার যেকোন একটি অ্যাপ্লাই করে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে পারবেন। আজকে এই দুটি প্রক্রিয়াই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

পৃথিবীর প্রতিটি দেশ তাদের নাগরিকদের ফিল্টার করার জন্য বিভিন্ন উপায় বের করেছে। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার তাদের নাগরিকদেরকে চেনার জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র রেজিষ্ট্রেশন চালু করেছে। যদিও এই প্রক্রিয়াটি পূর্বেই ছিলো তবে তখন এর নাম ছিলো ভোটার আইডি কার্ড হালনাগাত। ২০০৮ সাল থেকে এই প্রক্রিয়াটির নাম জাতীয় পরিচয় পত্র হালনাগাত হিসেবে আত্তীকরণ করে। নিচে অফলাইন এবং অনলাইন প্রক্রিয়ায় কিভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করবো তা নিচে বর্ণনা করলাম।

অনলাইনে কিভাবে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করবো?

অনলাইনে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করার জন্য প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্রের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার জাতীয় পরিচয় (NID) নম্বর, জন্মতারিখ ও ঠিকানা দিয়ে আপনার একাউন্ট রেজিষ্ট্রেশন করবেন। তারপর আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র হালনাগাত করার সময় দেওয়া নাম্বারে একটা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড আসবে। সেই কোডটি ভেরিফাই হলেই আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রোফাইলে লগ ইন করতে পারবেন। আপনার প্রোফাইলে কি ভুল আছে, সেই তথ্য গুলো এডিট করবেন। তারপর সেই ভুল তথ্য সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী আপনাকে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি (NID Service Fee) প্রদান করতে হবে। সাথে সাথে সেই তথ্য যে ভুলভাবে বসানো হয়েছে তা প্রমাণের জন্য আপনাকে আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা কাগজপত্রাদি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে এবং শেষে সাবমিট বাটনে ক্লিক করলে আপনার আবেদন পত্রটি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গৃহীত হবে।

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনের দিকে যে তথ্যসমূহ রয়েছে তা হলো উক্ত ব্যক্তির-

জাতীয় পরিচয় পত্রের পিছনের দিকে যে তথ্যগুলো পাবেন তা হলো উক্ত ব্যক্তির-

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করতে কি কি লাগে?

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদের ফটোকপি, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্টের ফটোকপি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি, এমপিও শীট বা সার্ভিস বইয়ের ফটোকপি। এসব কাগজপত্র আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য খুব দরকার। এই সকল ডকুমেন্ট বা প্রমাণাদির মধ্যে থেকে যে কোন ২ টি সনদ নিয়ে আপনার আবেদন পত্র নিয়ে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করতে পারবেন।

তবে, যদি কোনো ব্যক্তির কাছে এসব কাগজ-পত্র না থাকে তাহলে আপনি চাইলে আপনার প্রমাণাদি কাগজপত্র হিসেবে বিয়ের কাবিন, অফিস প্রধানের প্রত্যয়ন, ওয়ারিশ সনদ, ভাই-বোনের জাতীয় পরিচয় পত্র ও সন্তানদের জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়েও আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করতে পারবেন। তবে এটা মনে রাখবেন জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধের জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে অন্যথায় আপনি সংশোধন করতে পারবেন না। নিচে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার জন্য যা যা কাগজপত্র লাগবে তার একটা লিস্ট নিচে দেওয়া হলো-

See also  জাতীয় পরিচয়পত্র (NID GOV BD) রেজিস্ট্রেশন, ডাউন*লোড, সংশোধন, রিইস্যু এবং অন্যান্য

জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন (NID Card Correction) করতে কি কি লাগে?

জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন (NID Card Correction) করতে কিছু ভেরিফাইড কাগজপত্র লাগবে। আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার কাছে এসএসসি বা এইচএসসি অথবা সমমানের সনদপত্র এবং অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র লাগবে। অন্যদিকে আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট না হয়ে থাকেন তাহলে পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স, এমপিও সিট/সার্ভিস বহি , বিবাহের কাবিন নামা এবং কমপক্ষে ২ সন্তানের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি যেখানে আপনার পিতা/মাতার নাম শুদ্ধ রয়েছে।

যদি আপনি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনি নিচের কাগজপত্র লাগবে যা সত্যায়িত হতে হবে। আপনার এসএসসি বা এইচএসসি অথবা সমমানের সনদপত্র এবং অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র সত্যায়িত করবেন আপনার এলাকার সংসদ সদস্য / স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি / গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা / মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে। নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে যা যা কাগজপত্র লাগবে তার লিস্ট লিচে দেওয়া হলো।

জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে, উক্ত সংশোধনের স্বপক্ষে, ক্ষেত্রমত, নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র/তথ্যাদি জমা দিতে হইবে, যথা:-

আপনি যদি স্টুডেন্ট না হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে আপনার নাম ভেরিফাইড করার জন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর পাসপোর্ট/জন্ম নিবন্ধন সনদ/ড্রাইভিং লাইসেন্স/ট্রেড লাইসেন্স/কাবিননামার সত্যায়িত অনুলিপি ইত্যাদি দলিলাদি জমা দিতে হবে।

যদি আপনি ধর্ম পরিবর্তনের কারণে আপনার নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি এবং আবেদনের যথার্থতা সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য দলিলাদি জমা দিতে হবে।

কোনো কারণে যদি বিবাহ বা বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে তাহলে অথবা অন্য কোনো কারণে কোনো মহিলা তাঁর নামের সাথে যুক্ত স্বামীর নামের অংশ (টাইটেল) সংযোজন বা বিয়োজন বা সংশোধন করতে চাইলে, বিবাহের কাবিননামা/তালাকনামা/মৃত্যু সনদ/ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা/বিবাহ বিচ্ছেদ ডিক্রির সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে। যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চান সরেজমিন তদন্ত করতে তাহলে উনি তা পারবেন।

পিতা-মাতার নাম সংশোধন : জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করতে যা যা লাগবে

প্রতিটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে যা থাকে তা হলো নিজের নামের সাথে সাথে তাঁর পিতা মাতার নাম ও জন্ম তারিখ। উপরে আমরা জেনেছি ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন বা জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করতে যা লাগবে। কিন্তু এখন আমরা দেখবো যদি কোনো ভোটারের তাঁর জাতীয় পরিচয় পত্রে মা বাবার নাম ভুল থাকে তালে নিম্নোক্ত কাগজপত্র লাগবে সংশোধন করতে।

আপনি যদি আপনার পিতা এবং মাতার নাম সংশোধন করতে চান তাহলে আপনার এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান সনদপত্র। অবশ্যই উক্ত সনদে আপনার পিতা/মাতার নাম উল্লিখিত থাকতে হবে। এবং সাথে আপনার পিতা, মাতা, ভাই ও বোনের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হইবে। এই সকল কাগজপত্র নির্বাচন কমিশন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্ত করতে পারবেন। নিচে পিতা মাতার নাম হলে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করতে যা যা লাগবে তার একটি লিস্ট অপস্থাপন করা হলো।

যদি কেউ ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র পিতা মাতার নাম হলে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করতে চায় তাহলে অবশ্যই উপরিউক্ত কাগজপত্র লাগবে। এসকল কাগজপত্র আপনাকে অবশ্যই সত্যায়িত করতে হবে আপনার এলাকার সংসদ সদস্য / স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি / গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা / মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে সত্যায়িত করতে হবে।

পিতা-মাতার নামের পূর্বে মৃত কথাটি সংযোজন / বিয়োজন করতে সংশোধন (NID Card Correction) করতে যা যা লাগবে

যদি কোনো জাতীয় পরিচয়পত্রধারীর পিতা-মাতা মারা যান এবং উনার মা-বাবার নামের পূর্বে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন করতে চান তাহলে আপনার মা-বাবা যে মারা গেছেন সেই মর্মে বিভিন্ন দলিলাদি প্রদান করতে হবে। অপরদিকে, যদি আপনার মা-বাবা জীবিত আছেন তারপরও যদি মৃত কথাটি যুক্ত হয়ে যায় তাহলে আপনার মা-বাবা যে জীবিত আছেন সেই মর্মে কাগজপত্র লাগবে। যা অবশ্যই সত্যায়িত করতে হবে। যা আপনার এলাকার সংসদ সদস্য / স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি / গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা / মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে সত্যায়িত করতে হবে। আপনি যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ডে আপনার পিতা-মাতার নামের পূর্বে মৃত কথাটি সংযোজন / বিয়োজন করতে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করতে চান তাহলে নিচের কাগজপত্র / দলিলাদি জমা দিতে হবে।

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার জন্য পিতা/মাতার মৃত্যু সনদের সত্যায়িত অনুলিপি বা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি ও জীবিত থাকিবার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হইবে। যদি মারা যান তাহলে মারা যাওয়ার জন্য তার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হইবে।

জন্ম তারিখ সংশোধন: জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করতে যা যা লাগে

বাংলাদেশের প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর সাধারণ সমস্যা হলো জন্ম তারিখ ভুলসংক্রান্ত সমস্যা। অনেক সময় বিভিন্ন একাডেমিক সনদে জন্ম তারিখের সাথে জাতীয় পরিচয় পত্রের সনদের জন্ম তারিখ মিল না থাকলে সমস্যা হয়। যেহেতু বিভিন্ন সনদের জন্ম তারিখ পরিবর্তন করা সহজ না তাই জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ সংশোধন করা সহজ। যদি আপনি উপযুক্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চান তাহলে খুব সহজে সংশোধন করতে পাবেন ।

আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চান তাহলে আপনাকে নিচের বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। জন্ম তারিখ ঠিক করার জন্য আপনাকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনের সাথে জমা দিতে হবে। এসএসসি বা সমমানের সনদ প্রাপ্ত না হয়ে থাকলে সঠিক বয়সের পক্ষে সকল দলিল উপস্থাপনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনে ডাক্তারী পরীক্ষা সাপেক্ষে সঠিক নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

যদি উপরিউক্ত কাগজপত্র বয়স কমানো বা বাড়ানোর পক্ষে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার আবেদন পত্রটি গ্রহণ হবে এবং আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) জন্ম তারিখ সংশোধন হয়ে যাবে।

কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন / ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন (NID Card Correction) করার জন্য আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে অথবা অফলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে NID Card Correction করার জন্য আপনাকে বাংলাদেশ কমিশনের অফিসিয়াল কার্যালয়ে একটু আবেদন ফর্ম পুরন করতে হবে। সেই আবেদনকৃত ফর্ম নিয়ে আপনার উপজেলা /এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। সংশোধনের পক্ষে পর্যাপ্ত উপযুক্ত দলিলাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?

আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার আইডি কার্ড এর কোনো রেকর্ড সংশোধন করেন তাহলে প্রতিটি ভুল সংশোধনের ডাটা বাংলাদেশ নির্বাচন কার্যালয়ের সার্ভারে রেকর্ড থাকে। আপনি যা কিছু সংশোধন করে না কেনো সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। তাই যা সংশোধন করবেন তা অবশ্যই যেনো সঠিকে হয়ে থাকে। অন্যথায়, পরবর্তীতে সংশোধনের সুযোগ থাকবেনা।

জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার আইডি কার্ডে ভুলক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে?

জাতীয় পরিচয় পত্রে যদি ভুলক্রমে আপনার জীবিত বাবা-মায়ের নামের পূর্বে মৃত কথাটি যোগ করা থাকে, আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার জন্য আপনাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জীবিত আছেন এই মর্মে আপনার এলাকার সংসদ সদস্যের / প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা / আপনার এলাকার চেয়ারম্যান দ্বারা সত্যায়িত পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

বিয়ের পর স্বামীর নাম জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার প্রক্রিয়া কি?

জাতীয় পরিচয় পত্রে আপনার বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজন করে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার উপায় হলো – আপনাকে আপনার নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।

বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন আইডি কার্ড থেকে স্বামীর নাম বিভাবে বাদ দিতে হবে?

জাতীয় পরিচয় পত্রে আপনার বিয়ের পর স্বামীর নাম বিয়োজন করে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার উপায় হলো – আপনাকে আপনার বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি?

বিবাহ বিচ্ছেদের পর আপনার পুরাতন স্বামীর নাম জাতীয় পরিচয় পত্রে বিয়োজন করে আপনার নতুন বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া হলো – আপনার নতুন বিয়ে এবং বিবাহবিচ্ছেদের কাগজপত্র দরকার হবে। জাতীয় পরিচয় পত্রে আপনার বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজন করে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার উপায় হলো – প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

See also  জেনে নিন ছবি তোলার কতদিন পর এনআইডি কার্ড হাতে পাবেন

আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?

আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে আপনার পেশা সম্পর্কিত কিছু পরিবর্তন করার জন্য আপনাকে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। যদিও এই তথ্যটি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রে উল্লেখ্য থাকেনা।

আমার আইডি কার্ড এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?

প্রতিটি নাগরিকের পরিচয় পত্রে আসল ব্যক্তি খুঁজে পাওয়ার আসল কারণ হলো ছবি। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার ক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

ভোটার আইডি কার্ডে ঠিকানা কিভাবে পরিবর্তন/ সংশোধন করা যায়?

আপনি যদি শুধু আবাসস্থল করে থাকেন কেবল তখনি আপনি আবাসস্থল পরিবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনার ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফর্মে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে। মনে রাখবেন, বার বার জায়গা পরিবর্তন করলে আপনার জন্মস্থানকে আপনার ভোটার এলাকা হিসেবে দেওয়া উচিত।

ভোটার আইডি কার্ড এ রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভূক্ত বা সংশোধনের জন্য কি করতে হয়?

আপনার ভোটার আইডি কার্ডে যদি রক্তের গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত বা সংশোধন করতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কৃত ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট দাখিল করতে হয়।

আপনি যদি উপরিউক্ত যেকোন একটি অথবা অধিক সংধোধন করতে চান তাহলে আপনাকে উপযুক্ত প্রমানাদিসহ আবেদন পত্রের সাথে জমা দিলেই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন পত্রটি জমা হয়ে যাবে। একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন এ তথ্যগুলোর যে কোন একটি বা সবগুলো একসাথে পরিবর্তনের জন্য একই পরিমাণ ফি প্রদান করতে হবে। আপনি ফি প্রদান করতে পারেন বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে।

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন / ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি কত টাকা?

আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্রে কোনো সংশোধন করতে চান, তাহলে আপনাকে সংশোধনের জন্য অবশ্যই ফি দিতে হবে। বিভিন্ন প্রকারের সংশোধনের জন্য বিভিন্ন রকম ফি ধার্য করা হয়েছে। আপনি যখন আপনার ভোটার আইডি কার্ডের আপনার একাউন্টে প্রবেশ করবেন তখন এডিট / সংশোধন করার তিনটি ক্যাটাগরি পাবেন। এই ক্যাটাগরি গুলো হলো ১. NID Information, ২. Other Information, ৩. Both Information ইত্যাদি। এই প্রতিটি ক্যাটাগরির তথ্য সংশোধের জন্য আপনাকে আলাদা ফি দিতে হবে। যা নিচে টেবিল আকারে প্রদান করা হলো।

সংশোধনের ধরণফি’র পরিমাণ
এনআইডির তথ্য সংশোধন ( NID Info Correction)২৩০ টাকা
অন্যান্য তথ্য সংশোধন (Other Info Correction)১১৫ টাকা
উভয় তথ্য সংশোধন (Both Info Correction)৩৪৫ টাকা
রিইস্যু ( Duplicate Regular)৩৪৫ টাকা
রিইস্যু জরুরী ( Duplicate Urgent)৫৭৫ টাকা
টেবিলঃ জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে ইসির নতুন নির্দেশনা

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র / ভোটার আইডি কার্ড (এনআইডি) সংশোধনে অযৌক্তিক দলিলাদি গ্রহণ করতে মানা করেছে। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা হিয়েছে যে দীর্ঘদিন ধরে সংশোধনের আবেদন অনিষ্পন্ন রাখা থেকেও বিরত থাকতে। অনেক দিন ধরে আবেদন ধরে রাখার ব্যাপারে ইসি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দিয়েছে। এর জন্য ইসি ১২টি নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, জাতীয় পরিচয়পত্র / ভোটার আইডি কার্ড সেবা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যই ছিল নাগরিক সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করা। সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে যারা নিযুক্ত রয়েছেন তারা যেনো ক, খ, ও গ ক্যাটাগরির সংশোধনের আবেদনসমূহ সংযুক্ত দলিলাদি যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনানুসারে তদন্ত করে দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি (অনুমোদন/বাতিল) করে নাগরিক সেবাকে আরও গতিশীল করে। নিচে ১২টি নির্দেশনা দেওয়া হলো যাতে আপনাদের সুবিধা হয়। নির্দেশনাগুলো হলো-

১. নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করতে হবে।

২. ইসির মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ তার আওতাভুক্ত (ক, খ, গ) ক্যাটাগরির আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করার পর নিজেই অনুমোদন / বাতিল করতে পারবেন।

৩. সংশোধনের ক্ষেত্রে দরকারি শিক্ষা সনদ, জন্ম সনদ বা অন্যান্য যৌক্তিক প্রয়োজনীয় দলিলাদি থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত দলিলাদি চেয়ে হয়রানি করতে মানা করছেন।

৪. দীর্ঘদিন ধরে সংশোধনের জন্য যে অনিষ্পন্ন আবেদনপত্র জমা আছে তার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রয়োজনে শুনানী, গ্রহণ ও দাখিল করা যৌক্তিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ তার আওতাধীন আবেদনসমূহ অনুমোদন/বাতিল করতে হবে।

৫. মাঠপর্যায়ে সব ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সপ্তাহে ২ (দুই) দিন শুনানী গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। শুনানী প্রদানের তারিখের পরবর্তী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

৬. ক্যাটাগরি বিভাজনের পর হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার এখতিয়ারভুক্ত সংশোধনের আবেদনগুলো ক্যাটাগরি ‘ক’ ৭ কার্য দিবস, ক্যাটাগরি ‘খ’ ১৫ কার্য দিবস ও ক্যাটাগরি ‘গ’ ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে নিষ্পন্ন করবেন।

৭. আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তার আওতাধীন যে সব আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যর্থ হবেন, সে সব আবেদনসমূহের সংশ্লিষ্ট দলিলাদি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা সুস্পষ্ট মতামতসহ আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির জন্য মহাপরিচালক, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ বরাবর প্রেরণ করবেন। এক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনের আলোকে ‘গ’ ক্যাটাগরি থেকে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের সুপারিশ করতে পারবেন।

৮. দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকে তার কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারে ইউজার অ্যাকাউন্টটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। সংশোধনের আবেদন নিষ্পন্নের বিষয়টি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। সব প্রকার লগ এনআইডি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে, এতে প্রত্যেক ইউজার তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে।

৯. যে সব নাগরিক অনলাইনে আবেদন করতে অসমর্থ হবেন তাদের উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে অনলাইনে আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। হেল্প ডেস্ক অনলাইন আবেদন সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ ও সংশোধন সংশ্লিষ্ট যৌক্তিক দলিলাদির বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

আপনি যেকোন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র / ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য ফি জমা দিতে পারবেন। কিভাবে আপনি সঠিকভাবে এবং খুব সহজে জাতীয় পরিচয়পত্র / ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য ফি জমা দিবেন তা নিচে আলোচনা করা হলো।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন বা জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য কত টাকা লাগবে তা যেনে নিলে ভালো হয়। কারণ, টাকার ব্যাপারে অন্তত একটু ভেবে কাজ করা দরকার।

ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কিত তথ্য সংশোধন ফি কত?

যেহেতু আমি পূর্বেই বলেছি যে আপনি যখন আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রোফাইলে প্রবেশ করবেন, সেখানে কয়েকধরনের ক্যাটাগরি আছে। সেই ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিভিন্ন টাকা পরিশোধ করতে হয়। তথ্য সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রের ফি বিভিন্ন হয়ে থাকে। নিচের সকল ফির সাথে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত আছে।

একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি যখন ১ম, ২য় বা ৩য় বার আবেদন করবেন, তখন প্রতি আবেদনের সময় আপনার পরিশোধিত ফির পরিমাণ বাড়তে থাকবে।

যদি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডে ছাপা আছে এমন তথ্য যেমন, নিজ নাম/ পিতা/ মাতা/ স্বামী-স্ত্রীর নাম/ ঠিকানা/ রক্তের গ্রুপ ইত্যাদি সংশোধনের দরকার হয় তাহলে আপনাকে ১ম বার আবেদন বাবদ ২৩০ টাকা দাখিল করতে হবে। আপনি যদি এই সকল তথ্য ২য় বার সংশোধনের জন্য আবেদন করেন, তাহলে আবেদন বাবদ ৩৪৫ টাকা দাখিল করতে হবে। এবং ৩য় বার আবেদন করার সময় ৫৭৫ টাকা ফি জমা দিতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে লিস্ট আকারে লেখা হলো।

ভোটার আইডি কার্ড অন্যান্য তথ্য সংশোধন ফি কত?

যেসকল তথ্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র / স্মার্ট কার্ড/ ভোটার আইডি কার্ডে ছাপা হয়নি এমন তথ্য যেমনঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, ধর্ম, পার্সপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, মোবাইল নম্বর সংশোধন করতে চাইলে অবশ্যই কম খরচ পড়বে। আপনি যদি এই সকল তথ্য সংশোধন / পরিবর্তন করতে চান তাহলে আপনার আবেদন প্রতি ফি ১১৫ টাকা দাখিল করতে হবে।

বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি প্রদান

আপনি যদি নিজে একজন সংশোধনকারী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার আবেদন ফি প্রদানে বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। তার মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং অন্যতম। বিকাশের মাধ্যমে কিভাবে আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের ফি দিবেন বিকাশ এ্যাপ থেকে তা নিচে আলোচনা করা হলো। বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি বিকাশের মাধ্যমে দিতে পারবেন এর ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো।

উপরিউক্ত সকল প্রক্রিয়া নিচে ছবির মাধ্যমে দেখানো হলো-

আপনার উপরিউক্ত ধাপগুলো শেষ হবার পর আপনাকে আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন নম্বর দিয়ে ফি পরিশোধ করতে হবে। সফল ভাবে ফি পরিশোধ হলে আপনি একটি পেমেন্ট রিসিট পাবেন যা আপনার মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আপনার মোবাইলে ফোনে চলে আসবে। পরবর্তীতে যদি আরও ইসিতে ফি প্রদান করতে হয় এর জন্য আপনি প্রক্রিয়াটি আপনার মোবাইলের বিকাশ অ্যাপে Save করে রাখতে পারেন।

রকেটের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি প্রদান

আপনি চাইলে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ফি রকেটের মাধ্যমে প্রদান করতে পারেন। এই জন্য আপনাকে আপনার মোবাইলে অবশ্যই রকেট অ্যাপ ইন্সটল থাকতে হবে। আপনার মোবাইলে যদি ইন্সটল না থাকে তবে আপনি Google Play Store থেকে ডাউনলোড করে নিবেন। ডাউনলোড করার পর আপনার মোবাইল নাম্বার ও পিন দিয়ে লগ ইন করে নিবেন। তারপর নিচে দেখানো ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি রকেটের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের ফি রকেটের মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন। প্রক্রিয়া গুলো হলো-

See also  জানুন NID Wallet কি?NID Wallet ব্যবহার করার নিয়ম ২০২৩

১. প্রথমে আপনাকে Bill Pay অপশনটি সিলেক্ট করুন। এরপর সার্চবক্সে টাইপ করতে হবে Biller Number – 1000 এবং লিখে সার্চ করার পর EC Bangladesh এই বিলার কে সিলেক্ট করুন এবং নিচের মত অপশন পাবেন।

উপরিউক্ত ছবিতে দেখতে পাচ্ছে যে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার বসাতে হবে। আর অন্য জায়গায় অ্যাপ্লিকেশনের ধরণ দিতে হবে। তাই যে জায়গায় জাতীয় পরিচয় নাম্বার বসাতে বলবে, সেখানে আপনার ১০ বা ১৭ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড নম্বরটি ইংরেজিতে লিখুন। অন্যদিকে যে জায়গায় আবেদনের ধরণ (Application Type) সিলেক্ট করতে বলবে, সে জায়গায় আবেদনের ধরণ লিখুন। জেনে নিন অথবা নিচে দেওয়া ধরণ অনুসারে একটি নম্বর বাছাই করুন।

যদি আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার আইডি কার্ডের নাম, পিতা-মাতার নাম, স্বামী-স্ত্রীর নাম বয়স বা ঠিকানা সংশোধন করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে আবেদনের ধরণ হিসেবে ১ নম্বর অর্থাৎ তথ্য সংশোধন। সুতরাং আপনি Application Type এ ১ Type করবেন।

তারপর যদি আপনি আপনার নিজের রকেট একাউন্ট থেকে ফি প্রদান করেন তাহলে Self সিলেক্ট করুন। আর যদি অন্য কারো একাউন্ট থেকে বা অন্য কারো জাতীয় পরিচয় পত্র / ভোটার আইডি সংশোধন করে থাকেন তাহলে Other অপশন সিলেক্ট করতে হবে এবং আপনার মোবাইল নম্বরটি ইংরেজিতে লিখুন।

তারপর Validate বাটনে ক্লিক করলে এবং রকেট একাউন্টের পিন নম্বর দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম ডাউনলোড

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Correction) এর জন্য যে ফর্ম দরকার তা আপনি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আপনি চাইলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ফরমটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করার জন্য নিচের নিংকে ক্লিক করুণ।

আপনার এই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফরম ডাউনলোড লিংকটি যদি কাজ না করে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না ।

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার ধাপসমূহ

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন / ভোটার আইডি কার্ড সংযোজন এবং বিয়োজনের জন্য বিভিন্ন লেখক বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করবে। কিন্তু, সবচেয়ে ভালো এবং সহজ পদ্ধতিসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো।

ধাপ ১: ডকুমেন্টসগুলোর স্ক্যান/ ছবি নেয়া

এনআইডি কার্ড সংশোধনের জন্য সবার আগে যে কাজটি করার লাগবে তা হচ্ছে – আপনার প্রয়োজনীয় ও দরকারি কাগজপত্র সমূহ ছবি / ক্যান করে নেওয়া। কেননা, সময়ের মধ্যে যদি আপনি আপনার দরকারি দলিলাদি না সংযোজন করেন তাহলে আপনার কাজটি হতে হতে হবেনা। তাই সবার আগে আপনাকে আপনার কাগজপত্র ভালভাবে স্ক্যান করে নিয়ে যদি বোঝা না যায় বা ঝাপসা আসে প্রয়োজন হলে Brightness ও Contrast বাড়িয়ে নিন।

যেসকল কাগজপত্র/দলিলাদি আপনার ভোটার আইডি কার্ড / জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) এর জন্য দরকারি, আপলোড করার সময় খুঁজে পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফোল্ডারে সঞ্চয় করে রাখুন।

ধাপ ২: NID ওয়েবসাইটে রেজিষ্ট্রেশন

দরকারি সকল দলিলাদি / কাগজপত্র স্ক্যান করে নিয়ে নির্দিষ্ট ফোল্ডারে রাখার পর এবার কম্পিউটার থেকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর জাতীয় পরিচয়পত্র উইং ওয়েবসাইটে আপনার জন্য একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে। যে একাউন্টের আন্ডারে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন করবেন।

কিছুকাল আগে ইসির জাতীয় পরিচয় পত্র উইং এ একাউন্ট তৈরি করা সহজ ছিলো কিন্তু বর্তমানে তা সম্ভব নয়। কেননা, বর্তমানে ফেস আইডেন্টিফিকেশনের জন্য অনেক সমস্যা হচ্ছে। এই একাউন্ট তৈরি করার বিষয়টি শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ছাড়া অন্যজন পারবেন না।

আপনি উপরিউক্ত লিংকটি ব্যবহার করে খুব সহজেই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন (NID Card Correction) করার জন্য একটি তৈরি করে নিতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে আপনার ভোটার আইডি কার্ড নম্বর এবং জন্মতারিখ দেওয়ার পর মোবাইল এবং ফেস ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে আপনি আপনার জন্য একটি একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন।

ধাপ ৩: তথ্য সংশোধন

ধাপ -২ যখন আপনি সফলভাবে পার হবেন তখন নিচের মতো একটি ওয়েবপেজ পাবেন। যেখানে আপনি আপনার প্রোফাইল পিক দেখতে পাবেন এবং সাথে সাথে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য এবং ঠিকানা নামের তিনটি অপশন দেখতে পাবেন। আপনি যেটা সংশোধন করতে চান সেই ট্যাবে চলে যান।

ধরি আপনি ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন করার জন্য আবেদন করছেন, তাই আপনার ব্যক্তিগত ট্যাব চালু থাকতে হবে। তারপর উপরের ডান পাশে নীল রংয়ের এডিট বাটনে ক্লিক করবেন। তারপর নিচের মত পেইজ আসবে। এখানে আপনি তথ্যগুলো পুনরায় টাইপ করে এডিট করার অপশন পাবেন। এডিট বাটনে ক্লিক করলে নিচের মতো একটা ওয়েবপেজ আসবে, যেখানে আপনার ওয়ার্নিং দিবে। যে আপনি কি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চান।

আপনি যদি রাজি থাকেন, তাহলে বহাল বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর নিচের মতো একটি পিক আসবে, যেখানে আপনি যে তথ্যটি সংশোধন করতে চান, তার বাম পাশের টিক অপশনে ক্লিক করুন। এভাবে আপনার ভুল তথ্যগুলো প্রমাণপত্রের সাথে মিল রেখে সঠিকভাবে টাইপ করতে হবে।

তারপর, পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন। এখানে আপনার সংশোধন করা তথ্যের পূর্বরুপ ও সংশোধিত রুপ দেখতে পাবেন। সব ঠিক থাকলে আবারও পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনার সংশোধন করার জন্য যে ফি ধার্য হবে আপনার কাছে দেখাবে।

ধাপ ৪: ফি প্রদান

আপনার আবেদনটি কার্যকর করার জন্য, আপনাকে আপনার ভুল তথ্য সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী ফি প্রদান করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ফি প্রদান করবেন তা ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার ব্রাউজার বন্ধ করা যাবেন। ফি প্রদান করেই আপনাকে আবার আবেদনের বাকি কাজ শেষ করতে হবে। ফি প্রদানের জন্য আপনি রকেট, বিকাশ, ওকে ওয়ালেট ব্যবহার করে খুব সহজে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার জন্য টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

এই অনুচ্ছেদের কিছু উপরের দিকে পেয়ে যাবেন কিভাবে আপনারা রকেট, বিকাশ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আপনার ফি প্রদান করবেন। তাই নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছিনা।

ধাপ ৫: প্রমাণপত্র / ডকুমেন্ট আপলোড ও আবেদন সাবমিট

প্রথম ধাপে আপনারা যে সকল কাগজপত্র রেডি করে আপনার ডিভাইসের যে ফোল্ডারে রাখতে বলছিলাম তার এখন প্রয়োজন পড়বে। আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার ফাইল গুলো আপলোড করবেন। আপনার ডকুমেন্ট গুলো আপলোড করে আবেদন সাবমিট করতে পারবেন।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন লাগে

অফিসিয়ালভাবে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে সর্বোচ্চ সময় ৪৫ দিন লাগে। তবে এটি নির্ভর করে আবেদনের ধরণ বা ক্যাটাগরির উপর। অনলাইনে উপযুক্ত প্রমাণপত্র আপলোড করে সঠিকভাবে আবেদন করার পর ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই আবেদন অনুমোদন হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোন ভেরিফিকেশনের জন্য হয়তো আরো ৫-১০ দিন দেরি হতে পারে।

পাস না করা সত্ত্বেও এস.এস.সি পাশ দিয়েছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি?

আপনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে।

একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিভাবে তা সংশোধন করা যায়?

সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।

আমি পাশ না করেও অজ্ঞতাবশতঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তদুর্দ্ধ লিখেছিলাম এখন আমার বয়স বা অন্যান্য তথ্যাদি সংশোধনের উপায় কি?

আপনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এস.এস.সি পাশ করেননি, ভুলক্রমে লিখেছিলেন মর্মে হলফনামা করে এর কপিসহ সংশোধনের আবেদন করলে তা সংশোধন করা যাবে। এর জন্য আপনার অর্থদন্ড বা জেলজরিমানা হতে পারে।

আমার আইডি কার্ড এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?

আপনা যদি আপনার ছবি অস্ফষ্ট আসে এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

এই জন্য আপনাকে এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সনদ, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

নিজের ডাক নাম বা অন্য নামে নিবন্ধিত হলে সংশোধনের জন্য আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

নিজের নাম ভুল হলে তা আপনার এসএসসি/সমমান সনদ অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে। বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্ত্রী/স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সম্পাদিত এফিডেভিট ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, ওয়ারিশ সনদ, ইউনিয়ন/পৌর বা সিটি কর্পোরেশন হতে আপনার নাম সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।

পিতা/মাতাকে ‘মৃত’ উল্লেখ করতে চাইলে কি কি সনদ দাখিল করতে হয়?

আপনার পিতার মৃত্যু হলে আপনি যদি আপনার পিতা/মাতা/স্বামী মৃত উল্লেখ করতে চাইলে মৃত্যু সনদ দাখিল করতে হব।

ভোটার আইডি কার্ডে কিভাবে ঠিকানা সংশোধন করা যায়?

আপনি যদি আপনার এলাকা বা ঠিকানা পরিবর্তন করতে চান, তাহলে আপনাকে শুধুমাত্র আবাসস্থল পরিবর্তনের কারনেই ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে এলাকায় বসবাস করছেন সেই এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে ফর্ম ১৩ এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। তবে একই ভোটার এলাকার মধ্যে পরিবর্তন বা ঠিকানার তথ্য বা বানানগত কোন ভুল থাকলে সাধারণ সংশোধনের আবেদন ফর্মে আবেদন করে সংশোধন করা যাবে।

আমি বৃদ্ধ ও অত্যন্ত দরিদ্র ফলে বয়স্ক ভাতা বা অন্য কোন ভাতা খুব প্রয়োজন। কিন্তু নির্দিষ্ট বয়স না হওয়ার ফলে কোন সরকারী সুবিধা পাচ্ছি না। লোকে বলে আইডি কার্ড –এ বয়সটা বাড়ালে ঐ সকল ভাতা পাওয়া যাবে?

না। আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ডে কোনো পরিবর্তন করতে পারবেন না । প্রদত্ত বয়স প্রামাণিক দলিল ব্যতিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, প্রামানিক দলিল তদন্ত ও পরীক্ষা করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কার্ডে পিতা/মাতার নাম বিভিন্নভাবে লেখা হয়েছে কিভাবে তা সংশোধন করা যায়?

এটা একটা অনেক বড় সমস্যা। আপনাকে অবশ্যই তা সংশোধন করে নিতে হবে। কেননা, আপনার ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে এই জাতীয় পরিচয় পত্রটি দরকার পরবে। এর জন্য আপনাকে আপনার পরিবারের সকলের কার্ডের কপি ও সম্পর্কের বিবরণ দিয়ে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/ উপজেলা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর পর্যাপ্ত প্রামাণিক দলিলসহ আবেদন করতে হবে।

নিজ/পিতা/স্বামী/মাতার নামের বানান সংশোধন করতে আবেদনের সাথে কি কি দলিল জমা দিতে হবে?

আপনি যদি আপনার নিজের নাম, পিতার নাম এবং মাতার নাম সংশোধন করতে চান তাহলে আপনাকে আপনার এসএসসি/সমমান সনদ, জন্ম সনদ, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব সনদ, চাকুরীর প্রমাণপত্র, নিকাহ্‌নামা, পিতা/স্বামী/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

আমার আইডি কার্ড এর ছবি অস্পষ্ট, ছবি পরিবর্তন করতে হলে কি করা দরকার?

হুম, আপনি অবশ্যই তা পারবেন। কেননা যখন আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি তখন আপনার চেহেরা আর বর্তমানের চেহেরা মিল না থাকলে আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন । প্রতিটি পরিবর্তনের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এক্ষেত্রে নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

আমি আমার পেশা পরিবর্তন করতে চাই কিন্তু কিভাবে করতে পারি?

আপনি যদি আপনার পেশা পরিবর্তন করতে চান তাহলে আপনাকে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/জেলা নির্বাচন অফিসে প্রামাণিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। উলেখ্য, আইডি কার্ডে এ তথ্য মুদ্রণ করা হয় না।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর নতুন বিবাহ করেছি এখন আগের স্বামীর নামের স্থলে বর্তমান স্বামীর নাম কিভাবে সংযুক্ত করতে পারি?

হ্যাঁ অবশ্যই পারবেন। এর জন্য আপনাকে প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদের তালাকনামা ও পরবর্তী বিয়ে কাবিননামাসহ সংশোধন ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন আইডি কার্ড থেকে স্বামীর নাম বিভাবে বাদ দিতে হবে?

যদি কোনো কারনে কারোর বিবাহ বিচ্ছেদ যায় এবং আপনার ভোটার আইডি কার্ডে আপনার ডিভোর্সের স্বামীর নাম উল্লেখ্য আছে। তাহলে তা সংশোধের জন্য আপনাকে বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত দলিল (তালাকনামা) সংযুক্ত করে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হবে।

বিয়ের পর স্বামীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?

আপনি যদি বিয়র পর আপনার স্বামীর নাম আপনার ভোটার আইডি কার্ডে যুক্ত করতে চান তাহলে নিকাহনামা ও স্বামীর আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে।

আমি অবিবাহিত। আমার কার্ডে পিতা না লিখে স্বামী লেখা হয়েছে। কিভাবে তা সংশোধন করা যাবে?

হ্যাঁ। আপনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আপনি বিবাহিত নন মর্মে প্রমাণাদিসহ আবেদন করতে হবে।

ভুলক্রমে পিতা/স্বামী/মাতাকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হলে সংশোধনের জন্য কি কি সনদ দাখিল করতে হবে?

আপনার ভোটার আইডি কার্ডে আপনার জীবিত পিতা/স্বামী/মাতাকে ভুলক্রমে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু আপনার পিতা/স্বামী/মাতা এখনো জীবিত আছে। তাহলে আপনি এটা সংশোধন করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্র দাখিল করতে হবে।

ভোটার আইডি কার্ডে কোন সংশোধন করা হলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হবে?

 অবশ্যই। আপনি যা কিছু সংশোধন করবেন সকল সংশোধনের রেকর্ড সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে।

ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য কিভাবে সংশোধন করা যায়?

আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন/এনআইডি রেজিস্ট্রেশন উইং/উপজেলা/থানা/জেলা নির্বাচন অফিসে ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। এর জন্য আপনাকে সংশোধনের পক্ষে উপযুক্ত দলিলাদি / প্রমাণাদি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।

উপরিউক্ত অনুচ্ছেদটি পড়ে যদি কোনো উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই আপনার ফেসবুক অথবা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

About nidgov

আমি গত ৫ বছর থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে কাজ করেছি। আমি আমার স্নাতক শেষ করেছি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমার বিষয় ছিলো কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং (ইঞ্জি.)।

View all posts by nidgov →